মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
নৌ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে ভারত: রীভা গাঙ্গুলি নাসের আল-খেলাইফি: জেলে থেকে ফরাসি ফুটবলের ‘সম্রাট’ এজেন্টদের টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া গেলে পুনঃনিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করলে ক্ষমা করা হবে না: কাদের র‌্যাব-৮ এর অভিযানে ১১,৫০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার ট্রেন দুর্ঘটনা : তূর্ণা নিশীথার মাস্টার-সহকারী মাস্টার বরখাস্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে প্রতারণা : রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড ঘূর্ণিঝড় বুলবুল : কৃষি ফসলের ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকা চার দিনের সফরে আজ নেপাল গেলেন রাষ্ট্রপতি ট্রেন দুর্ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক শুধু কৃষিতে নির্ভর না করে শিল্প উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রেল দুর্ঘটনা: সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ ৬ ঘণ্টা পর চালু হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১ লাখ,আহতদের ১০ হাজার দেয়ার ঘোষণা নুসরাত হত্যা:ফাঁসির আসামিদের পাঠানো হলো কুমিল্লা কারাগারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুর্ঘটনাস্থলে রেলমন্ত্রী দুই ট্রাভেল এজেন্সিতে র‌্যাবের অভিযান, ১০৫০ পাসপোর্ট জব্দ কসবায় ট্রেন সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর সংসদে বাংলাদেশের পতাকবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন
২৩

এএইচএম কামারুজ্জামান: ইতিহাসের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০১৯  

 

 


দিনটি জেল হত্যা দিবস পালন করা হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতা - সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (বর্তমানে জাদুঘর) হত্যা করা হয়। জাতীয় চার নেতা। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরেই এ চারজন ছিলেন আওয়ামী লীগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতাকে ‘নির্ভেজাল’ করতে ওই বছরের ৩ নভেম্বর কারাগারে তাদের হত্যা করে তৎকালীন স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। 

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫ আগস্ট একটি কলঙ্কজনক ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। যার আরেকটি ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড। একটা প্রশ্ন মনে আসে- শেখ মুজিবকে হত্যার প্রায় আড়াই মাস পরে কারাগারে এ চার নেতাকে কেন হত্যা করা হয়েছিল? 

কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তখন অনেকটা দিশেহারা। চারজন সিনিয়র নেতাসহ অনেকেই কারাগারে এবং অনেকে আত্মগোপনে ছিলেন। বাকি নেতারা প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে সমঝোতা করেন। অনেকে আবার রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

এ অবস্থায় স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটির নেতৃত্বকে ‘গলা টিপে’ হত্যা করতেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায় মোশতাক ও তার দোসরেরা। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অন্যদের সঙ্গে নৃশংস হত্যার শিকার হন চারজনের অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামান। 

বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তিনিসহ এই ‘চার স্তম্ভ’ই বারবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমাদের স্বাধীনতা। বেদনাবিধুর এই দিনে তাদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। 

একাত্তরের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষণার পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। 

সে লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধীরে ধীরে মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা করে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একই মোহনায় দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি।

সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি যুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধকালে জেলে থাকার সময় শেখ মুজিবের হয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন এই জাতীয় চার নেতা।

একাত্তরের ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ’ গঠন করে, সেই পরিষদে ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ অনুমোদন করে তারই ভিত্তিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ গঠন করেন তারা। 

প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং উপ-রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র ও পুনর্বাসনবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন। তবে বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

পরম নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে তারা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রিয় মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করেন। বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।  

শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সম্রান্ত ও রাজনৈতিক পরিবারে। ১৯২৩ সালের ২৬ জুন বর্তমান নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি রেল স্টেশন সংলগ্ন নূরপুর গ্রামে তার জন্ম। 

বাবা আবদুল হামিদ ও মা মোছা. জেবুন্নেছা। তার দাদা ছিলেন রাজশাহী অঞ্চলের গুলাই-এর জমিদার ও স্বনামধন্য সমাজসেবী হাজী লাল মোহাম্মদ। 

আট ভাই ও চার বোনের মধ্যে কামরুজ্জামান ছিলেন সবার বড়। তাই তার নাম রাখা হয়েছিল হেনা। হয়তো তারা এমনটা ভেবেছিলেন যে, বড় হয়ে হাসনাহেনার মতোই সৌরভ ছড়াবে পরিবারের এই সন্তানটি। 

সেই হিসেবে বলাই যায়, কামরুজ্জামান ‘হাসনাহেনা’র মতোই সৌরভ ছড়িয়েছেন। তার সাক্ষী আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তার ব্যাপ্তি আরও বহুদূর পৌঁছাতে পারতো। কিন্তু তা হতে দেয়নি একদল বিপথগামী সৈন্য; যারা রাতের আঁধারে তার প্রাণবায়ু ছিনিয়ে নেয়। 

বঙ্গবন্ধু যোগ্য লোককে যোগ্যস্থানে বসাতেন। রাজণৈতিক শিষ্য হিসেবে তিনি যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন পরম নিষ্ঠার সঙ্গে এএইচএম কামরুজ্জামান অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেকমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার একটি প্রবন্ধে লেখেন, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের এমএনএ হিসেবে কামরুজ্জামান সাহেব পার্লামেন্টে ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের তথা স্বাধিকারের দাবি তুলে ধরতেন। আর সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অনলবর্ষী বক্তা এবং তাজউদ্দীন আহমেদ দক্ষ সংগঠক। 

পারিবারিক রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠার কারণে অল্প বয়সেই কামরুজ্জামান রাজনীতিকে সক্রিয় হন। তিনি ১৯৪২ সালে বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্রলীগের রাজশাহী জেলা শাখার সম্পাদক এবং ১৯৪৩-৪৫ সালে বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতিতে বিএ (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি নেন ১৯৪৬ সালে।
 
১৯৫৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর রাজশাহীতেই আইন পেশায় যোগ দেন তিনি। 

আর আনুষ্ঠানিভাবে ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এএইচএম কামরুজ্জামান। এরপর ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে  মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পরপর পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 

১৯৬৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং ১৯৭০ সালে পালন করেন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। 

আইয়ুব সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১-দফা দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে ১৯৬৯ সালে কামরুজ্জামান গণপরিষদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। 

১৯৬৯ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ডাকা গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন কামরুজ্জামান। 

সত্তরের নির্বাচনে তিনি রাজশাহী থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগরে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় কামরুজ্জামান ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে তিনি রাজশাহীর দুটি আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭২-৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

১৯৭৪ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ীমী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গঠনতন্ত্রের বিধি মোতাবেক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ছিলেন বাকশালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও।

রাজশাহী তথা দেশের মানুষের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ট ও রাজনীতির প্রবাদপুরুষ এএইচএম কামরুজ্জামান। তার ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র। পিতার মতো তিনিও জনমানুষের নেতা হিসেবে সমাদৃত। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাজশাহী সিটি গড়ার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন কামরুজ্জামান ও জাহানারা জামান দম্পতির এই চতুর্থ সন্তান।

জেলে বাবার হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি বয়সে তরুণ। শৈশবে বাবার স্নেহ বঞ্চিত হয়েছেন, শেষবারের মতোও তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি বাবা কামরুজ্জামানের মুখ। 

৩রা নভেম্বরের স্মৃতিচারণ করে মেয়র লিটন বলেন, ৩ নভেম্বর (১৯৭৫ সাল) সকালেই আমরা বাবার মৃত্যু সংবাদ পাই। মা অত্যন্ত ভেঙে পড়েন। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে যে মানুষটি কখনও হতোদ্যম হননি সেই মানুষটিই বাবার মৃত্যু সংবাদে কেমন মুষড়ে পড়েন। এ সময় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আর আত্মীয়-স্বজনে ভরে যায় আমাদের বাড়ি। 

‘মা চাচ্ছিলেন বাবার লাশটা রাজশাহীতে এনে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করতে। কিন্তু খুনিদের দোসররা তাতে বাধ সাধে। এক পর্যায়ে মায়ের জেদের কাছে তাদের পরাজিত হতে হয়। রাজশাহীতে আনা হয় বাবার লাশ।’

মেয়র লিটন বলেন, আমাদের বাবার মরদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। মায়ের কাছে শুনেছি বাবার রক্তমাখা দেহের ওপর চাদর চাপানো ছিল। মুখটা দেখে মনে হয়নি কী নিদারুণ কষ্টে তার জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জাতীয় নেতাদের সঙ্গে স্বাধীন  বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছেন বাবা। নিজের স্ত্রী-সন্তানের দিকে তাকানোর সুযোগ পাননি। সেই মানুষটাকে কোন অপরাধে হত্যা করা হলো, আজও তার উত্তর পাইনি,’ যোগ করেন লিটন। 

বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্বপ্ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির পিতা বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ 

তার সেই স্বপ্নের সোনা বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমাদেরও উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে তার হাতকে শক্তিশালী করা। তবেই গড়ে উঠবে ‘সমৃদ্ধ বাংলা’। 

লেখক: উপাচার্য, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর, বাংলাদেশ।