• রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১০ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
মিল মালিক, পাইকার ও ফড়িয়ারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: কৃষিমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৩, শনাক্ত ১৩০৮ পদ্মা সেতুতে বসলো ৩৪তম স্প্যান নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৯, শনাক্ত ১০৯৪ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মারা গেছেন সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৯৬ বিপদে নিজেদের একা ভাববেন না: আইনমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৪, শনাক্ত ১৫৪৫ মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল ১২ বছরের ব্যর্থতার জন্য বিএনপির নেতৃত্বের পদত্যাগ করা উচিত বিদেশে পালালেও এসআই আকবরকে ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিপত্র জারি : ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২১, শনাক্ত ১৬৩৭ জনগণের ভাষা বুঝে না বলেই বিএনপি ব্যর্থ: কাদের ৭ কার্যদিবসেই শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, আসামির যাবজ্জীবন ২৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করবে টিসিবি: বাণিজ্যমন্ত্রী পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী ৩০ অক্টোবর সরকারের আশ্বাসে ইন্টারনেট-ডিশ সংযোগ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত স্থগিত

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা ঘোষণার ঐতিহাসিক দলিল

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের অধীনে শাসিত পূর্ব পাকিস্তান ছিল শোষিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। স্বাধীনতার জন্য ছটফট করছিল বাংলার আমজনতা। তখন বাঙালির একমাত্র ভরসার স্থান ছিলেন বঙ্গবন্ধু; যিনি দেশের মানুষের অধিকার আদায় করতে পুরো যৌবন জেলে কাটিয়েছেন, দেশকে স্বাধীন করতে হয়েছিলেন নির্যাতিত। তার বছরের পর বছর কারাবাস তৎকালীন পুরো পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা ও জনতার মনে দাগ কেটেছিল। কারণ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার আত্মত্যাগ বিবেচনায় বাংলার জনতার পক্ষে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে লিখিতভাবে ঘোষণা করেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ। 

বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা হওয়ার সূত্রপাত

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা ঘোষণার পর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পূর্বাভাস পেয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার। তাই বঙ্গবন্ধুসহ তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের দমিয়ে রেখে স্বাধীনতা সংগ্রাম ভণ্ডুল করতে চেয়েছিল জেনারেল আইযূব খান পরিচালিত সরকারটি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তখন ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। ৬৯-এর গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কারামুক্তও হন। পরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেছিল আওয়ামী লীগ। তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ, বাঙালিকে নিপীড়ন থেকে মুক্তি ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রামের জন্য বঙ্গবন্ধুকে তখন বাঙালি জনতা জাতির পিতা হিসেবে ভাবতে শুরু করে।

যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা ঘোষণা করা হয়

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভের পর আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গড়িমসি করছিল তৎকালীন পাকিস্তানের সরকার। কিন্তু পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে বাঙালি জনতাকে নিয়ে স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ। আর স্বাধীনতার জন্য লড়াকু ছাত্রলীগ তাদের কেন্দ্রীয় সংসদের এক সভায় জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা ঘোষণা করে।

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা স্বীকৃতির প্রথম দলিল

১৯৭০ সালে দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। স্বাধীনতার জন্য তখন মানুষের মাঝে বিরাজ করছিল চাপা ক্ষোভ। তখন স্বাধীনতার জন্য দিন-রাত কাজ করছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আনাচে-কানাচে থাকা নেতা-কর্মীরা। স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি’ স্লোগান ধারণ করে সভা করেছিল তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ। সেই সভায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি ও তার নেতৃত্বে অবিচল আস্থা রেখে স্বাধীন বাংলার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে তিনটি আহবান ও দুটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেই সব আহবান ও সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম ঐতিহাসিক দলিল। সেই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ৪ নম্বরে থাকা সিদ্ধান্তে বঙ্গবন্ধুকে প্রথম জাতির পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর এটিই বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক দলিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা ঘোষণাসহ সভার পাঁচ আহবান ও সিদ্ধান্তসমূহ

 

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা প্রথম আনুষ্ঠানিক দলিল।

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা প্রথম আনুষ্ঠানিক দলিল।

 ‘১. এই সভা পাকিস্তানি উপনিবেশবাদ শক্তির লেলিয়ে দেয়া সেনাবাহিনী কর্তৃক বাঙালিদের উপর গুলি বর্ষণে নিহত বাঙালি ভাইদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করিতেছে এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করিতেছে এবং পাকিস্তানি উপনিবেশবাদ শক্তির সেনাবাহিনীর এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়িয়া তোলার জন্য আহবান জানাইতেছে।

২. এই সভা ভাড়াটিয়া সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর বাঙালি ভাইদের বাঁচাইয়া রাখার জন্য স্বাস্থ্যবান বাঙালি ভাইদেরকে ব্লাডব্যাংকে রক্ত প্রদানের আহবান জানাইতেছে। 

৩. এই সভা পাকিস্তানি উপনিবেশবাদের কবল হইতে মুক্ত হইয়া স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ও নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়া স্বাধীন বাংলাদেশে কৃষক শ্রমিক রাজ কায়েমের শপথ গ্রহণ করিতেছে।
 
৪. এই সভা স্বাধীন বাংলার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা রাখিয়া তাহার সব চালাইয়া যাওয়া সংগ্রাম চালাইয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছে। 

৫. এই সভা দলমত নির্বিশেষে বাংলার প্রতিটি নর-নারীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম চালাইয়া যাওয়ার আহবান জানাইতেছে।’

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অবহেলিত বাঙালি জাতির অধিকার আদায়, পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর মুখের একটি বাণী শুনতে তখন মুক্তিকামী বাঙালিরা চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতো। তখন তার নেতৃত্ব ও নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতো বাঙালিরা। আর সেই সুফলও পেয়েছিল বাঙালিরা। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠার জন্যই বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করে রাখবে বাঙালিরা।