• বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭

  • || ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ফাইজারের ভ্যাকসিন অনুমোদন দিলো যুক্তরাজ্য করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩১, শনাক্ত ২২৯৩ ঘরোয়া অনুষ্ঠানের কথাও পুলিশকে জানাতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ জানুয়ারি ভাস্কর্য নিয়ে উস্কানি ছড়ালে সরকার বসে থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, ২৮ প্রতারক আটক করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৯, শনাক্ত ১৭৮৮ মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বিএনপির গণতন্ত্র হচ্ছে ‘মুখে শেখ ফরিদ আর বগলে ইট’: কাদের ঢাকা থেকে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান আর নেই করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত ১৯০৮ ভ্যাকসিনের জন্য ৫০ শতাংশ টাকা ছাড়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৭, শনাক্ত ২২৯২ কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা আর নেই এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তাকারী ২ পুলিশ বরখাস্ত করোনায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু ডিসেম্বরেই এইচএসসির ফল: শিক্ষামন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৮, শনাক্ত ২৪১৯

বাংলাদেশ-ভারতের মানবিকতার ডাক শুনতে পেলো পাকিস্তান

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

বাংলাদেশ ও ভারতের মানবিক উদ্যোগের জবাবে পাকিস্তান সেখানে আটক ১০ হাজার বাঙালি ও শিশুকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে এক উপজাতীয় অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এমনকি একজন সরকারি মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তান বেতারেও এ ঘোষণা প্রচারিত হয়।

পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে অন্তরীণ পাকিস্তানি বেসামরিক ব্যক্তি ও যুদ্ধবন্দিদের পরিবারের ছয় হাজার নারী ও শিশুকে মুক্তিদানের প্রস্তাব করায়, তার প্রত্যুত্তরে পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মুখপাত্রের মতে, উপমহাদেশের মানবিক সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।

এর আগে বাংলাদেশ ও ভারত এক ঘোষণায় পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দি এবং  বেসামরিক ব্যক্তিদের পরিবারের মহিলা ও শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিনিময়ে পাকিস্তানের তরফ থেকে এ রকম শুভেচ্ছা নিদর্শন পাওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ অবজারভার, ২২ নভেম্বর ১৯৭২প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে আটক বাঙালির সংখ্যা চার লাখ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ভাষণে তিনি বলেন, ‘মুসলিম বাংলার প্রতি পাকিস্তান যে বিদ্বেষ নয় শুভেচ্ছাই পোষণ করে, এটা বোঝানোর জন্য ১০ হাজার বাঙালি মহিলা ও শিশুকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

সমাজবিরোধীদের ক্ষমা করা হবে না

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘যারা সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত, তাদের ক্ষমা করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘এসব সমাজবিরোধীদের শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’ ১৯৭২ সালের এই দিনে গণভবনে যশোর জেলার কেশবপুর থানা আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করার সময় বঙ্গবন্ধু একথা বলেন। প্রতিনিধি দলটি বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি পদক লাভে অভিনন্দন জানায় ও মাল্যদান করে।

দৈনিক বাংলা, ২২ নভেম্বর ১৯৭২শান্তির পক্ষে যেকোনও উদ্যোগকে স্বাগত

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দিনে আবারও বলেছেন, তার সরকার বিশ্ব শান্তি কামনা করে এবং বিশ্ব শান্তির স্বপক্ষে যেকোনও উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে। জাপানের নতুন সম্পর্কের পটভূমিতে এশিয়ায় যে নতুন ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে তার অভিমত জানতে চাওয়া হলে তিনি একথা বলেন। তিনি জাপানের অর্থনৈতিক বিষয়ক দৈনিক পত্রিকার এক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এনা পরিবেশিত খবরে বলা হয়— প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তাঁর সরকারের নীতি সুস্পষ্ট এবং তার সরকার বিশ্ব শান্তির কাজে নিবেদিত প্রাণ। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’, এটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা। এই আদর্শের অনুসারী বলেই বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে আগ্রহী। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গেতো বটেই। জাপান ও বাংলাদেশ সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে জাপান ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরে কোনও এক সময়ে তিনি জাপান সফরে যাবেন।’

দৈনিক বাংলা, ২২ নভেম্বর ১৯৭২

সমৃদ্ধির জন্য জনসংখ্যা পরিকল্পনা অপরিহার্য

জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে জনসংখ্যা সমস্যা এক দারুণ সংকটজনক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। এর জন্য একটি কার্যকরী জনসংখ্যা পরিকল্পনা কর্মসূচি একান্ত অপরিহার্য।’ তিনি বলেন, ‘দেশের সব নাগরিকের দায়িত্ব আছে। আমাদের এ কথা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে যে, আমাদের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে হলে, ভবিষ্যৎ বংশধরদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হলে, কার্যকরী জনসংখ্যা পরিকল্পনা কর্মসূচি অপরিহার্য।’