বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
সারাদেশের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন লিখতে হবে স্পষ্ট অক্ষরে: হাইকোর্ট আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস শাহজালালে পৌঁছেছে পাকিস্তানের ৮২ টন পেঁয়াজ ক্রিকেটের সঙ্গে টেনিসও এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীতে বাস চলাচল শুরু রিফাত হত্যা : চার্জ গঠন ২৮ নভেম্বর র‌্যাব-৮ এর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার ৭ ডিসেম্বর বিচারবিভাগীয় সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী বরিশাল বোর্ডে এসএসসিতে বৃত্তি পাচ্ছেন ১৪১৭ শিক্ষার্থী কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ বরিশাল বোর্ডে এসএসসির ফরম পূরণে সময় বাড়লো জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি: পলক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাক মালিকদের ফের বৈঠক আজ চক্রান্তকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে: ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী লবণের দাম বাড়ালে জেল-জরিমানা : বাণিজ্যমন্ত্রী লবণ নিয়ে গুজবে কান দিবেন না: শিল্প মন্ত্রণালয় গলাচিপায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ২০২১ সালের মধ্যে ১০০০ উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দেবে সরকার
৫২৭

ভুলের বৃত্তে ঘুরপাকে নিন্দিত বিএনপি

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জয়ের বিপরীতে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মহাবিপর্যয় ঘটেছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতিতে একধরনের শ্লথগতিতে নেতা-কর্মীরা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভুলের চোরাবালিতে পড়ে বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোটা কঠিন হবে। ভুলের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়ার কারণে নিন্দিত হচ্ছে বিএনপি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির নেপথ্যে কারচুপিকে অভিযোগ হিসেবে দাঁড় করালেও এনিয়ে কোথাও কোনও সাড়া নেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচনী আলোচনায় এই কারচুপির শক্ত প্রমাণ আসেনি। কূটনৈতিক পাড়ায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দৌড়ঝাঁপ থাকলেও সেখান থেকে তাদের জন্যে ইতিবাচক কোনও বার্তার খবর আসেনি। উপরন্তু নির্বাচনের পর পরই ভারত, চীন, রাশিয়া, কানাডা, সৌদি আরব, ইরানসহ একাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ বিএনপির অভিযোগকে আমলে নেয়নি।

এরই মধ্যে বিএনপি পড়েছে আরেক ঝামেলায়। নির্বাচন নিয়ে তাদের দলের মধ্যে দুই মত প্রবল। একটা পক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল সেটা প্রমাণে মরীয়া, আরেক পক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ভুল ছিল না সেটা বলতে আগ্রহী। বিএনপির এই অবস্থা আদতে নেতৃত্ব বিষয়ক দ্বন্দ্বের প্রকাশ। যা দলের অনেকেই মানতে পারছে না বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও বরকত উল্লাহ বুলুর ফাঁস হওয়া এক অডিও টেপের কথোপকথনের দলের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। ওই দুই নেতা তাদের কথোপকথনে মির্জা ফখরুলকে যেভাবে দুষছিলেন তাতে করে দলটির নেতাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিষয়টিই প্রকাশ্য হয়।

বিএনপির আরেকটি বিষয় সাধারণ মানুষের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করেছে। সেটি হলো, নির্বাচনের পর ফল প্রত্যাখ্যান করা বাংলাদেশে নজিরবিহীন কিছু নয়। সকল নির্বাচনের পরাজিত দলগুলোই বাংলাদেশে ফল প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশের কোনও নির্বাচনই সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। সেটা দলীয় সরকারের অধীনে হোক, কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে সরকারের অধীনেই হোক না কেন। ফলে বিএনপির এই দাবি নতুন কিছু নয়, বরং সেটা আগেকার সকল দলের ফল প্রত্যাখ্যানের ধারাবাহিকতাই। বিএনপি একই কাজ করে মানুষের কানে একই বীণ বাজিয়ে সমবেদনার বদলে ঘৃণা কুড়িয়েছে।

ফল প্রত্যাখ্যানের রুটিন সংবাদ সম্মেলনই সম্বল তাদের। নির্বাচনের এই ফলের পর সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও মধ্যেও কোনও উত্তাপ নেই, আওয়াজ নেই, নেই কোথাও বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও নিশ্চুপ প্রায়। নির্বাচিত ৮ সদস্য সাংসদ হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিএনপি জোট। এই সিদ্ধান্তের ফল কতখানি, এনিয়ে আছে সন্দেহ।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে বিএনপি তাদের আশানুরূপ ফল লাভ করেনি। এটা মূলত তাদের দলের শীর্ষ দুই নেতার দুর্নীতিজনিত কারণের অনুপস্থিতি ও ভুল রাজনীতি। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপির কোনও লাভ হয়নি। পুরো পাঁচ বছরের মধ্যে নানা হুমকি-হুঁশিয়ারি দিলেও তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার মত বড় কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। উল্টো আন্দোলনের নামে তাদের অনেক নেতাকর্মী পেট্রোল বোমাবাজি, আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে দেশের মানুষের শত্রু হিসেবে অনেকটাই চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই নাশকতার সময়ের কথা ভেবে মানুষ এখনও আতঙ্কে কাঁপে। ফলে সংসদে না যাওয়ার এখনকার যে সিদ্ধান্ত সেটা তাদের আরেক ভুল হতে যাচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর