বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৭ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
একজন মায়ের গল্প ইমিগ্রেশন: চোখের আইরিশের তথ্য দেবে ইসি তরুণদের দেখে আমি গর্বিত: সজীব ওয়াজেদ তিন হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা বুধবার দলকে এগিয়ে নিতে কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে-এমপি মুহিব বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল করেছে স্থিতিশীল সরকার- আইন মন্ত্রী সেতু বিভাগ, পাট ও পিএসসিতে নতুন সচিব ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে রাজস্ব কর্মকর্তা আটক আবারও ১৪ ভারতীয় জেলে আটক সাতটি অভ্যাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে দেশজুড়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: সজীব ওয়াজেদ চিফ হুইপের সঙ্গে ত্রিপুরা কংগ্রেসের চিফ হুইপের সাক্ষাৎ বাড়তি সুযোগের আশায় ভাসানচর যেতে রাজি রোহিঙ্গারা সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ পথ ছাড়লেন নেতানিয়াহু একনেকে ৫ প্রকল্পের অনুমোদন, ব্যয় হবে ৪৬৩৬ কোটি কানাডায় আবারও জয়ী জাস্টিন ট্রুডো নকশা না মেনে গাড়ি নামালে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী গতিশীল নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী এখন বিশ্ব নেতা- কাদের বছরের প্রতিটি দিনই সড়ক নিরাপদ রাখতে হবে: পলক অস্ত্র মামলায় কারাগারে পাগলা মিজান
৩৮

৫২৫ বছর পর বন্ধ পশুবলি

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০১৯  

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ৫২৫ বছর ধরে চলে আসা পশুবলির রীতি এবার বন্ধ হয়ে গেল। ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় মেনে সোমবার মহানবমীর দিন ত্রিপুরার রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গামন্দিরে পশুবলি দেওয়া হয়নি।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের ত্রিপুরার হাইকোর্ট রাজ্যের বিভিন্ন মন্দিরে পশুবলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি অরিন্দম লোধের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে জানান, রাজ্যের কোনো মন্দিরে আর পশু বা পাখি বলি দেওয়া যাবে না।

বাঙালি অধ্যুষিত রাজ্য ত্রিপুরার রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গামন্দিরে ৫২৫ বছর ধরে চলে আসছে পশুবলি। তবে সোমবার দুর্গামন্দিরে নোটিশ লাগিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশ বলে এবার পশুবলি বন্ধ রয়েছে। মন্দিরের দেবার্চন বিভাগের আধিকারিক নান্টুরঞ্জন দাস বলেছেন, ‘আমরা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পশুবলি বন্ধ করেছি। তবে রাজ্যের আইনমন্ত্রী রতন লাল দাস এই পশুবলি নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে যাচ্ছেন।’

কয়েক বছর আগে ত্রিপুরার রাজবাড়িতে দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যের এক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ সুভাষ ভট্টাচার্য। তিনি নবমী পুজোর দিন দুর্গামন্দিরে মহিষ বলি দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি তিন বছর ধরে হিন্দুশাস্ত্রের নানা দিক খতিয়ে দেখেন। তারপরই তিনি পশুবলি বন্ধের দাবিতে ত্রিপুরা হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি মামলা করেন। এরপর তিন দিন ধরে একটানা এই মামলার শুনানি চলার পর আদালত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই রায় দেন।

তবে সরকারের তরফে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল অরুণ কান্তি ভৌমিক পশুবলি বন্ধের আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, শত শত বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। তা ছাড়া ১৯৪৯ সালে ভারত ভাগের পর ত্রিপুরার রাজারা যখন ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে শামিল হন, তখন থেকে ত্রিপুরার সব মন্দিরের পূজা এবং বলির খরচ ত্রিপুরা সরকার বহন করার চুক্তি হয়। একই সঙ্গে চলে আসছে অতীতের এই প্রথা।

পাশাপাশি আবেদনকারী যুক্তি পেশ করে বলেন, বেদ-উপনিষদ কোথাও লেখা নেই যে, পশুবলি বন্ধ হলে হিন্দু ধর্ম পালনে বাধা তৈরি হবে। তা ছাড়া রাজন্য আমলের মন্দিরগুলোতে সরকারি খরচে বলি দিতে হবে—এই দাবির সপক্ষে কোনো দলিলপত্র পেশ করতে পারেনি সরকার পক্ষ।

ডিভিশন বেঞ্চ সরকারের যুক্তি খারিজ করে জানিয়ে দেয়, পশুবলির অধিকার সংবিধানের ২৫ ধারা অনুযায়ী ধর্মের অধিকারের আওতায় আসে না। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেন, রাজ্যের সব মন্দিরে সরকার বা কোনো ব্যক্তি, কেউই পশু বা পাখি বলি দিতে পারবেন না। এর জেরেই এবার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজায় ত্রিপুরা রাজ্যে বন্ধ হয়ে গেল পশু ও পাখি বলি।

এই বিভাগের আরো খবর