• বুধবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৬ ১৪২৮

  • || ১২ সফর ১৪৪৩

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
এসডিজি’র উন্নতিতে জাতিসংঘে পুরস্কৃত বাংলাদেশ নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী টিকা নেওয়ার পর খোলার সিদ্ধান্ত নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় নিতে পারবে বঙ্গবন্ধু ভাষণের দিনকে এবারও ‘বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে’ ঘোষণা ফিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী `লাশের নামে একটা বাক্সো সাজিয়ে-গুজিয়ে আনা হয়েছিল` উপহারের ঘরে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী জিয়াকে আসামি করতে চেয়েছিলাম: প্রধানমন্ত্রী এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করল? ওজোন স্তর রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে ওজোন স্তর রক্ষায় সিএফসি গ্যাসনির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে হবে ১২ বছরের শিক্ষার্থীরা টিকার আওতায় আসছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে শোক প্রস্তাব নিতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী এই সংসদে একের পর এক সদস্য হারাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার রূপরেখা সাজানোর নির্দেশ শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী উৎপাদন খরচ অনেক, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের একটি নতুন মাইলফলক পায়রা সেতু চালু হচ্ছে অক্টোবরে

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

আরও একটি স্বপ্ন পূরন হচ্ছে দক্ষিনাঞ্চলবাসীর। দেশের সর্ব দক্ষিনের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এবং পায়রা সমূদ্র বন্দর পর্যন্ত চালু হচ্ছে ফেরীবিহীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের পায়রা (লেবুখালী) সেতুটি চলতি বছরের অক্টোবর মাসে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

লেবুখালী সেতুর ‘ক্লোজিং সেগমেন্ট’ ঢালাইয়ের মাধ্যমে পায়রা বন্দর সহ পটুয়াখালী-কুয়াকাটার সাথে বরিশাল সহ সারা দেশের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। ইতমধ্যে ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থ চার লেনের লেবুখালী সেতুর কাজ শেষ। বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের দীর্ঘতম সেতুটি নির্মান কাজ শেষ হলে সমুদ্র বন্দর পায়রা ও কুয়াকাটার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ফেরিমুক্ত হবে। ইতোমধ্যে মূল সেতুর প্রায় শত ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কথা বিবেচনায় রেখে সেতুটি দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়েছে। দুপাশে সংযোগ সড়কের কাজও শেষ হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালের বাকেরগঞ্জের লেবুখলী সংলগ্ন পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের পায়রা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন সেতুটি নির্মাণে কাজ করছে।

এরইমধ্যে পায়রার মূল সেতুটি কাজ শত ভাগ শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। এই সেতুটি চালু হলে পায়রা বন্দর, কৃষি ও মৎস্য কেন্দ্রিক অর্থনীতিও গতি পাবে। ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা যেতে এখনো দুটি ফেরি পারাপার হতে হয়। একটি পদ্মা অপরটি পায়রা। দুই নদী পারাপারে দীর্ঘ সময় ব্যয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি যেমন আছে। তেমনি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যুগের পর যুগ পিছিয়ে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নয়নের কারনে। পদ্মা সেতুর কাঠামো দাঁড়িয়ে যাওয়ায় এখন সেই স্বপ্নও বাস্তব রূপ পাচ্ছে। সরকার ও সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞদের আশা, জটিল কাজ সব শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামী দেড় বছরের মধ্যে সেতুটি চালু করা যাবে। বাকি থাকে পায়রা। সেখানেও আশার খবর হলো পায়রা সেতুটিও এ বছরের অক্টোবরেরমধ্যে উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

এতে দক্ষিণের মানুষের যুগ যুগের ভোগান্তির অবসান যেমন হবে তেমনি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের হাতছানি দিচ্ছে। যা বর্তমান সরকারের একটি নতুন মাইলফলক।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, নদীর উভয়প্রান্তে মোট ১ হাজার ২শ’ ৬৮ মিটার এ্যাপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ইলেক্ট্রিফিকেশনসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজের শত ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল বলেন, নৌপথ সচল রাখার পাশাপাশি পর্যটন কথা বিবেচনা করে পায়রা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল স্টেট পদ্ধতিতে। এটি নির্মাণ করা হয়েছে করোনার কারনে সেতুর কাজে অনেকটা ব্যাঘাত ঘটে। তবে আমাদের চেষ্টা অক্টোবরের মধ্যে এই সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন পারাপার শুরু করার আশা করছেন।

চারলেন বিশিষ্ট এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল স্টেইড প্রযুক্তিতে নির্মিত এই সেতুটি এমন প্রযুক্তির দ্বিতীয় সেতু। এর আগে চট্টগ্রামের কর্নফুলি নদীতে শাহ আমানত সেতু এই প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়েছিল। চার লেন বিশিষ্ট এক হাজার ৪৭০ মিটার (চার হাজার ৮২০ ফুট) দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার (৬৪ দশমিক ৮ ফুট) প্রস্থের সেতুটি ক্যাবল দিয়ে দুই পাশে সংযুক্ত করা হয়েছে। উভয় পাড়ে সাত কিলোমিটারজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে সংযোগ সড়ক। ফলে নদীর মাঝখানে মাত্র একটি পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক থাকবে। সেতুটির মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। জলতল থেকে সেতুটি নদীর ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু হয়েছে। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত হবে পুরো সেতুটি। এই সেতুটি উন্মুক্ত হলে বরিশাল থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় যেতে আর কোনো ফেরি থাকবে না।

এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে পদ্মা সেতু নিয়ে আবেগটা একটু বেশিই। কারণ সেতুটি চালু হলে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে এই অঞ্চলের মানুষের। তাই পদ্মা সেতু নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চাওয়া-পাওয়া বা আশা-আকাংক্ষার কমতি নেই। এর সাথে আবার যোগ হয়েছে পায়রা (লেবুখালী) সেতু। কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আর পায়রা (লেবুখালী) সেতু র্নিমান কাজ শেষ হলে অপার সম্ভাবনা দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলবাসী।