• রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮

  • || ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
একনেক বৈঠক শুরু, অনুমোদন হতে পারে ১০ প্রকল্প করোনা টেস্টে গ্রামীণ জনগণের ভীতি নিরসনে কাজ করতে হবে জয়ের কাছ থেকেই আমি কম্পিউটার শিখেছি : প্রধানমন্ত্রী মানুষকে ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন হবে দেশেই: শেখ হাসিনা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ করোনা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী গণতন্ত্র সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ নভেম্বরে এসএসসি, ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ৩২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি দারিদ্র্যের সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে: রাষ্ট্রপতি উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত পরিকল্পিত জনসংখ্যা: প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে শয্যা ও অক্সিজেন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ক্লাইমেট ভালনারেবলস ফাইন্যান্স সামিট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এক টন আম যাচ্ছে নেপালে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

কিছুতেই কমছে না সংক্রমণ, সামনে ভয়াবহ সময়!

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২১  

লকডাউন চলছে। এর মধ্যেও বাড়ছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যু। টানা লকডাউনের ১১তম দিনেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না কেউই। খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- এভাবে চলতে থাকলে খুব তাড়াতাড়িই পরিস্থিতি করুণ হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, “সংক্রমণের সংখ্যা কিছুতেই কমছে না। যে হারে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে তাহলে আগামী সাত থেকে ১০ দিন পর আর হাসপাতালে বেড পাওয়া যাবে না।”

তিনি বলেন, “সব জেলাতেই কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সংক্রমণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। গত মাসে সারা দেশে সংক্রমণের হার অনেক বেশি ছিল। জুন মাসে এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন রোগী সংক্রমিত হয়েছেন। অথচ শুধু জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনে রোগী প্রায় এক লাখ হয়ে গেছে।”

এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ হয়ে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বতর্মানে দৈনিক শনাক্ত ১১ হাজারের ঘরে আছে। এভাবে চলতে থাকলে এক দিনে ১৪ থেকে ১৫ হাজারে পৌঁছে যেতে বেশি সময় লাগবে না। আর তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সবাইকে বিপদে পড়তে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমন শঙ্কার সঙ্গে একমত দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের শঙ্কা প্রসঙ্গে বলেন, “এটা সাবধান বাণী। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ কেবল সাবধানবাণী দেওয়া না। যত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে কঠোর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “যে লকডাউন চলছে তা কোন কাজেই আসছে না। কেউ ঘরে নেই, সুযোগ পেলেই সবাই বের হয়ে আসছে। আসলে, রোগীদের শনাক্ত করে আইসোলেশনে নিতে হবে, তার পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিন করতে হবে। সেই সঙ্গে, যারা টেস্ট করতে পারছে না, তাদের জন্য শতভাগ মাস্ক পরার নির্দেশনা দিতে হবে। এই কাজ করতে হবে আরও কঠোরভাবে। নয়তো সংক্রমণের এই চেইন ভাঙ্গা যাবে না।”

তবে এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, “শনাক্ত হওয়ার পর বাসায় যারা থাকবে তাদেরকে খাবার দিতে হবে। এই খাবার দেওয়ার কাজটা করতে হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিংবা প্রশাসন থেকে। একইসঙ্গে শহরেও এটা করতে হবে, যেটা এখন হচ্ছে না। যার কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে রাস্তায় বের হতে হচ্ছে।”

এই লকডাউনে কাজ হচ্ছে কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তার মতে, শনাক্তের সুফল এখন থেকে কিছুটা পাওয়ার কথা, কিন্তু সেরকম কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “যেটা আমি ধারণা করেছিলাম, শনাক্তে আজ থেকে একটা স্ট্যাবিলিটি আসবে। কিন্তু তা হয়নি, দেখা যাক আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে কিছু হয় কিনা। ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে যদি লকডাউনের ইফেক্ট না হয়, তাহলে ধরতে হবে চলমান বিধিনিষেধ আরও কঠোর করতে হবে।”

তার মতে, সারা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, আর মৃত্যুও হচ্ছে। সেক্ষেত্রে শুধু রাস্তাঘাট বন্ধ করাটা কাজে আসছে না। বিশেষ করে মসজিদগুলোতে ভিড় বন্ধ করা দরকার। এই মহামারি বিশেষজ্ঞ বলেন, ধীরে ধীরে সংক্রমণ শহরের দিকে আসছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “রাস্তাঘাটে ভিড় বাড়ছে, কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার চাইতেও অ্যালার্মিং হচ্ছে রাস্তার ধারের, গলির ভেতরের দোকানগুলোতে আড্ডা, মসজিদে নামাজের পরে আড্ডা এবং মানুষের বেড়াতে যাওয়া। মানুষের এইসব ভিড় থেকেই আসলে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।”

পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পেতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরও একটি পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো যায়। তারা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের চেয়ে রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ আর মৃত্যুহার বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।