• মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১২ ১৪২৮

  • || ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
বারবার প্রকল্প সংশোধনে বিরক্তি প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর দেশীয় উদ্যোক্তারা বিদেশে সার কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারবে গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় সমৃদ্ধ দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির করোনায় ভয়াবহ কিছু হবে না: অর্থমন্ত্রী শহীদ আসাদ গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন গণতন্ত্রের ইতিহাসে শহীদ আসাদ দিবস একটি অবিস্মরণীয় দিন শহীদ আসাদ দিবস আজ ‘বাংলাদেশকে আর কেউ অবহেলা করতে পারবে না’ সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে চুপ থাকবে না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়তে ডিসিদের প্রতি নির্দেশ ভয়-লোভের ঊর্ধ্বে থাকুন, ডিসিদের প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৪ দফা নির্দেশনা ‘শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ভিক্ষা করবে আমি দেখতে চাই না’ ওমিক্রনে মৃত্যু বাড়ছে, সচেতন থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সেবা নিতে এসে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন: প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ইসির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব আওয়ামী লীগের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির ইসি গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায় জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিপাহ্‌ ভাইরাস: খেজুরের রস পানে কী সতর্কতা?

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২২  

শীত ঋতু এলে কার ইচ্ছে করেনা খেজুরের রস খেতে! এই ঋতুর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হচ্ছে এটি। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে বাদুরবাহিত নিপা ভাইরাসের কারণে মানুষের মৃত্যু হওয়ায় খেজুরের রস পান নিয়ে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য খেজুরের রস পানে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিপাহ্ ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, নিপাহ্‌ ভাইরাস এক ধরণের ‘জুনোটিক ভাইরাস’ অর্থাৎ এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। পরে সেটি মানুষে মানুষে সংক্রমিত হয়ে থাকে।

বিশ্বে প্রথম নিপাহ্‌ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় শূকর খামারিদের মধ্যে। পরবর্তীতে এই ভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্ত হয় ২০০১ সালে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কে ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দেয়। এতে রোগী জ্বর ও মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এক পর্যায়ে খিচুঁনি হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

খেজুরের রস খেতে হলে কী কী সতর্কতা মেনে চলবেন? 

নিপাহ্‌ ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কোন টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। এ কারণে খেজুরের রস খাওয়া বন্ধ করে দেবেন, বিষয়টা তা নয়, এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক হলেই হবে।

প্রথমত রস সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে দ্রুত রস বিতরণ করার এবং ঢেকে রাখার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভাইরাস থেকে নিস্তার পাওয়ার প্রধান উপায় হল গাছগুলোর রস সংগ্রহের জায়গায় প্রতিরক্ষামূলক আবরণ বা স্যাপ স্কার্ট ব্যবহার করা, যেন বাদুড় এর সংস্পর্শে আসতে না পারে।

স্যাপ স্কার্ট হল, বাঁশ, কাঠ, ধইঞ্চা, পাটের খড়ি বা পলিথিন দিয়ে বানানো বেড়া। যেটা রসের নিঃসরণের চোঙের মাথা থেকে কলসির মুখ পর্যন্ত পুরোটা গাছের সাথে বেঁধে ঢেকে রাখা। কলসির মুখে ঢাকনার ব্যবস্থাসহ রসের উৎস মূল ঘিরে নাইলনের জাল দিয়ে বেষ্টনী দিতে হবে।

তবে আইসিডিডিআরবি’র গবেষকরা গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে দেখতে পেয়েছেন যে, রসের হাড়ির চারপাশ জাল বা এমন স্যাপ স্কার্ট দিয়ে ঢেলে দিলেও বাদুর কলসির মুখ বরাবর প্রস্রাব করে। ওই বেড়া দিয়ে বাদুড়ের রস খাওয়া প্রতিরোধ করা গেলেও ওই প্রস্রাবের গতি ঠেকানো যায় না। ফলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

কাঁচা খেজুর রস পান করা একটি সংস্কৃতি হলেও, প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জীবন রক্ষার্থে রস সিদ্ধ করে পান করা নিরাপদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, ‘‘কাঁচা রস পান করা মোটেও নিরাপদ নয়। এক্ষেত্রে রসটি ফুটিয়ে খেলে ঝুঁকিমুক্ত থাকা সম্ভব। আগুনে ৭০-৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে কিছু উত্তপ্ত করলেই ভাইরাস মরে যাবে। খেজুরের রস এতোটা নিয়ম ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া জরুরি এজন্য নিজে গিয়ে না হলেও বিশ্বস্ত সূত্রে রস সংগ্রহ করতে হবে। খেজুরের রস বিশ্বস্ত কারও থেকেই নেয়াই ভালো।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘ গাছ থেকে ঝরে পড়া ফল কিংবা গাছে ধরা ফল খাওয়ার আগে ফলগুলি ভালভাবে ধুয়ে এবং খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া উচিৎ। বাদুড়ের কামড়ের চিহ্ন দেখতে পেলে সেই ফল সাথে সাথে ফেলে দিতে হবে।’’

প্রচলিত খাদ্য হিসেবে খেজুর রস বেশ সস্তা, পুষ্টিকর এবং উপাদেয়। এতে আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানের পাশাপাশি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, গ্লুকোজসহ প্রচুর ভিটামিনের পুষ্টিগুণ রয়েছে। যা অনেকটা প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংকের মতো কাজ করে। তাই কাজকর্মের দুর্বলভাব কাটাতে খেজুর রসের জুড়ে নেই।