• সোমবার   ১৬ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৩

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য সাশ্রয় করুন: প্রধানমন্ত্রী সবাই স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী ‌ঢাকায় বসে সমালোচনা না করে গ্রামে ঘুরে আসুন বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন শেখ হাসিনাকে স্পেনের সরকার প্রধানের শুভেচ্ছা পি কে হালদার গ্রেফতার নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার প্রত্যয় এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের চার বছর পূর্তি আজ নারী খেলোয়াড়দের আরও সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা একটি জাতির জন্য অপরিহার্য’ ফ্ল্যাটে বাস করে শিশুরা ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেয়া হচ্ছে ৮৫ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতির সাজেক সফর স্থগিত একনেকে ৫ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার ১১ প্রকল্প অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বর্ধিত বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ৮ মে ২০২২  

থ্যালাসেমিয়া মূলত একটি বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ। এসব রোগী ছোট বয়স থেকেই রক্তস্বল্পতায় ভোগে। এদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা যেহেতু তাদের শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত তৈরি করতে পারে না, তাই অন্যের রক্ত ট্রান্সফিউশন নিয়ে তাদের জীবন চালাতে হয়।

প্রতিবছর ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস পালিত হয়। থ্যালাসেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা পানস ইংলেজোস ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রবর্তক। তাঁর ছেলে জর্জের মৃত্যু হয়েছিল থ্যালাসেমিয়ায়।

থ্যালাসেমিয়া রোগে রক্তে হিমোগ্লোবিন কণা উৎপাদনে সমস্যা হয়। অর্থাৎ অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা থাকে। এটি অটোজোমাল মিউট্যান্ট প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত রক্তের রোগ; মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের শরীরে আসে। ১৯২৫ সালে আমেরিকার টমাস কুলি ও পারোল লি এই রোগটি চিহ্নিত করেন।

থ্যালাসেমিয়া রোগটি প্রধানত দুই প্রকার। মেজর ও মাইনর। বাহকরা মাইনর থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্ম নিলে সেটি মেজর থ্যালাসেমিয়া। এর বাইরে আছে আলফা ও বিটা। আলফা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তদের রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি। বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা অনেক বেশি।

থ্যালাসেমিয়া মেজর কুলিস অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত সন্তান সাধারণত ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। মা ও বাবা কিংবা উভয়ের থ্যালাসেমিয়া জিন থেকে ভূমিষ্ঠ শিশুর শতকরা ২৫ ভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়, শতকরা ২৫ ভাগ সুস্থ হয়ে জন্মগ্রহণ করে, শতকরা ৫০ ভাগ রোগী বাহক হিসেবে জন্ম নেয়।

বছরে প্রায় এক লাখ নবজাতক গুরুতর থ্যালাসেমিয়াসহ নিয়ে থাকে। আর এটি ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো যেমন— মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোয় এ সমস্যা বেশি থাকলেও গ্লোবালাইজেশনের কারণে এখন পৃথিবীর সব দেশেই এ রোগী পাওয়া যায়।

থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ থ্যালাসেমিয়া রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বিটা থ্যালাসেমিয়া এবং কিছু ধরনের আলফা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর মধ্যে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে এর পরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে

চলুন দেখে নেওয়া যাক থ্যালাসেমিয়া হলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
- জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণে শিশুদের জন্ডিস হতে পারে এবং তাদের ত্বক ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।
- থ্যালাসেমিয়া হলে অনেক বেশি পরিমাণে তন্দ্রা লেগে থাকা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
- থ্যালাসেমিয়ার কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।
- হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।
- থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।
- অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।
- থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।
- অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
- মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ইনফেকশন বা সংক্রমণে সহজেই প্রভাবিত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রতিরোধের উপায়-
একটু সচেতন হলেই আমরা এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী বা বাচ্চা নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। 

পৃথিবীর অনেক দেশে, যেমন—সাইপ্রাস ১৯৭৩ সালে, বাহরাইন ১৯৮৫, ইরান ২০০৪, সৌদি আরব ২০০৪ এবং সর্বশেষ পাকিস্তান ২০১৩ সালে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর বা বাচ্চা নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর থ্যালাসেমিয়া আছে কি না তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে থ্যালাসেমিয়া রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।

যে কেউ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই জানা যায় কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না। বাবা ও মা দুজনেই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলেই কেবল সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একজন বাহক এবং অপরজন সুস্থ এমন দুজনের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হলে সন্তানদের কোনো সমস্যা হবে না।