• মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১২ ১৪২৮

  • || ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
বারবার প্রকল্প সংশোধনে বিরক্তি প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর দেশীয় উদ্যোক্তারা বিদেশে সার কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারবে গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় সমৃদ্ধ দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির করোনায় ভয়াবহ কিছু হবে না: অর্থমন্ত্রী শহীদ আসাদ গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন গণতন্ত্রের ইতিহাসে শহীদ আসাদ দিবস একটি অবিস্মরণীয় দিন শহীদ আসাদ দিবস আজ ‘বাংলাদেশকে আর কেউ অবহেলা করতে পারবে না’ সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে চুপ থাকবে না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়তে ডিসিদের প্রতি নির্দেশ ভয়-লোভের ঊর্ধ্বে থাকুন, ডিসিদের প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৪ দফা নির্দেশনা ‘শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ভিক্ষা করবে আমি দেখতে চাই না’ ওমিক্রনে মৃত্যু বাড়ছে, সচেতন থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সেবা নিতে এসে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন: প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ইসির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব আওয়ামী লীগের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির ইসি গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায় জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদসহ ৫ জলদস্যু আটক

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০২১  

র‌্যাব-৮ এর আভিযানে গত ভোররাতে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা এলাকা হতে উক্ত জলদস্যু দলের মূল সমন্বয়কারী(১) মোঃ খলিল জমাদ্দার (৫০), পিতাঃ মৃত কদম আলী জমাদ্দার, তালতলী, বরগুনা (২) মোঃ মাহাতাব পেদা (৩৩), পিতাঃ মৃত জালাল পেদা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৩) মোঃ জামাল আকন্দ (৩৬), পিতাঃ আব্দুল জলিল আকন্দ, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৪) মোঃ মাছুম @ মানছুর খলিফা (৪৬), পিতাঃ নওয়াব আলী খলিফা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৫) মোঃ মিনাজ খাঁ, পিতাঃ সিদ্দিক খাঁ, গলাপিচা, পটুয়াখালীদের’কে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ডাকাত দলেরকয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উক্ত অভিযানে জব্দ হয়৩টি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত নৌকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত ডাকাতির ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রদান করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফাতারকৃতরা জানায়, গ্রেফতারকৃতরা বঙ্গোপসাগরের সংঘবদ্ধ জলদস্যু দলের সদস্য। উক্ত ডাকাত/জলদস্যু দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৭-১৮ জন। সর্দারের নেতৃত্বে বিগত ৩/৪ বছর পূর্বেদলটি সংঘবদ্ধ হয়। বিভিন্ন সময়ে তারা মাছ ধরার মৌসুমে সমুদ্রে জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী ও মালামাল লুন্ঠন করে থাকে। তারা চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার ও ভোলাসহ পটুয়াখালী, বরগুনা ইত্যাদি এলাকার দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা/সাগরে দস্যুতা করে থাকে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা আরও জানায় যে, জলদস্যু এই দলের সদস্যরা কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে ডাকাতি করে থাকে। একটি উপদল অস্ত্রসহ অপহরণ ও লুটতরাজে অংশগ্রহণ করে। এই উপদলে সাধারণত ৮-১০ জন সদস্য থাকে। সর্দার নিজেই সাধারণত সরাসরি এই উপদলের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। অপর ২/৩ জনের একটি উপদল, মূল দলের সহযোগী হিসেবে ডাকাতিকালীন সময়ে কাজ করে। যারা প্রয়োজন অনুযায়ী লুন্ঠিত মালামাল সাগর হতে উপকূলে নিয়ে আসে। অতঃপর উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থানরত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়কারী দলেরনিকট হস্তান্তর করে। তারা বিভিন্ন মৎসব্যবসায়ীদের নিকট লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রি করে থাকে। এই উপদলটি৩/৪জনের সমন্বয়ে গঠিত। এরা সাগরে গমনাগমনকারী মৎসজীবিদের ব্যাপারে গোপন তথ্যও সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া সর্বক্ষনিক বিভিন্ন গ্রুপের ভিতর সমন্বয় করে। এছাড়া তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি ও সংগঠিত ডাকাতির প্রতিক্রিয়া ও ভূক্তভোগী পরিবার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।এছাড়া মুক্তিপণ সংগ্রহ করার জন্য ভিন্ন আরও একটি ২/৩ জনের উপদল নিয়োজিত থাকে। যারা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান পরিবর্তন করে অবস্থান করে। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে মুক্তিপণ সংগ্রহ করে থাকে।

গ্রেফতারকৃতরা জানায় ঘটনার প্রায় ১০/১২ দিন পূর্বে গলাচিপা খেয়াঘাটে সর্দারসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন ডাকাত সদস্য বর্ণিত ডাকাতির বিষয়টি চুড়ান্ত পরিকল্পনা করে। উক্ত সময়ে গ্রেফতারকৃত খলিল উপস্থিত ছিল। অতঃপর সকল ডাকাত সদস্যদের জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখ সকাল ১১০০ ঘটিকায় গলাচিপার একটি রাইস মিলের পাশে গ্রেফতারকৃত ও অন্যান্য সাগরে গমনকারী জলদস্যু সদস্যরা মিলিত হয়। অতপর পরিকল্পনামাফিক গলাচিপা খেয়াঘাট হতে একটি ভাড়াকৃত নৌকা যোগে গভীর সমুদ্রে বলেশ্বর-পায়রা মোহনা হতে ৩০ কি.মি. দক্ষিণে যেয়ে এক এক করে সর্বমোট ০৭ টি নৌকায় ডাকাতি করে এবং ০৭ জনকে অপহরণ করে জীম্মি করে। লুন্ঠিত মালামাল নিয়ে ভাড়াকৃত নৌকাযোগে প্রত্যাবর্তন করে গ্রেফতারকৃত খলিলের নিকট হস্তান্তর করে। গ্রেফতারকৃত খলিল উক্ত লুন্ঠিত মাছ মৎস ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করে বলে জানায়।

গ্রেফতারকৃতরা জানায়, অপহরণ করার পর মাঝিদের নৌকার পাটাতনের নীচে গাদাগাদি করে রেখে দেয়। অতঃপর তারা দক্ষিণ পূর্ব দিকে যাত্রা করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে। তারা সোনারচর-চর নিজাম-মনপুরা হয়ে সন্দ্বীপ চ্যানেল এর কাছাকাছি পর্যন্ত গমন ও প্রত্যাবর্তন করে। গমনাগমন কালে দিনে নেটওয়ার্কের বাহিরে ও রাতে নেটওয়ার্কের ভিতরে অবস্থান করে সমন্বয় ও মুক্তিপন দাবী করে থাকত। এক পর্যায়ে তারা র‌্যাবের বিভিন্ন তল্লাশী অভিযান সম্পর্কে জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দেয়। ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগীদের ডাকাত বলে অপপ্রচার চালায়।

গ্রেফতারকৃত খলিল উক্ত দলের মূল সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করে থাকে।সে তালতলী, আমতলী, পটুয়াখালীতেদোকান পরিচালনার ছদ্মবেশে ডাকাতি কার্যক্রমের সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে থাকে। সে ডাকাতি পরিকল্পনায় যুক্ত থাকে এবং গোপনে ডাকাত দলকে নানাবিধ সহযোগীতা করে থাকে। সে ডাকাত দলের লুন্ঠিত মাছ কয়েকজন সুবিধাবাদী মৎসব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রির ব্যবস্থা করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি শেষে ডাকাতিতে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে। গ্রেফতাকৃত ডাকাত মাহাতাব পেদা, খলিল জমাদ্দার, জামাল আকন্দ মাছুম @ মানছুর খলিফা, মিনাজ খাঁ স্ব-শরীরে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে ও ভিকটিমদের নির্যাতন করে। তন্মধ্যে গ্রেফতারকৃত জামাল স্ব-শরীরে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ ছাড়াও সমুদ্রে দিক নির্নয়ে ও নৌকা চালানোর কাজ করে থাকে।গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।