• রোববার ২১ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৬

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুলাই স্পেন যাবেন প্রধানমন্ত্রী আমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবে: প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মার জন্য তাৎপর্যময় ও শোকের দিন আশুরার মর্মবাণী ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও করে না : প্রধানমন্ত্রী দুঃখ লাগছে, রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও বলে তারা রাজাকার শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ ‘চীন কিছু দেয়নি, ভারতের সঙ্গে গোলামি চুক্তি’ বলা মানসিক অসুস্থতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করুন চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত ও দক্ষ জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে চায় চীন: শি জিনপিং চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জিলকদ মাসের আমল ও ফজিলত

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৪  

জিলকদ দুই ঈদের মধ্যবর্তী মাস। কোরআনের ঘোষিত ৪ হারাম মাসের একটি। আবার হজের ৩ মাসের মধ্যবর্তী মাসও এটি। অবস্থানগত কারণ ছাড়াও এ মাসটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জিলকদ মাসের প্রকৃত আরবি নাম ‘জুলকাআদাহ’। ফার্সিতে ‘জিলকাআদাহ’; উর্দুতে ‘জিলকাআদ’ আর বাংলায় ‘জিলকদ’ প্রচলিত। জুলকাআদাহ বা জিলকদ অর্থ বসা, স্থিত হওয়া ও বিশ্রাম।

এ মাস বিশ্রামের মাস
ঈদুল ফিতর বিগত এবং ঈদুল আজহা সমাগত-মাঝের এই জিলকদ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ (দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়া), ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও নফল ইবাদত না থাকায় এ মাস জিলকদ বা বিশ্রামের মাস বলে শরিয়তে পরিচিত।

এ সময় প্রাচীন আরবের লোকজন বাণিজ্য থেকে ফিরে আসত, যুদ্ধবিরতিতে চলে যেত। সে কারণেও এই মাস বিশ্রামের। ঋতুর পরিবর্তনে এই সময়টায় স্থানীয় আরবের লোকজনের হাতে তেমন কোনো কাজ থাকত না। আরব সংস্কৃতি অনুযায়ী তারা এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থাকত এবং অন্যায়-অপরাধ (মদপান) থেকেও বিরত থাকতে সচেষ্ট থাকত। এসব কারণেও এই মাস বিশ্রামের বলে পরিগণিত হয়।

জিলকদ মাসের আগে-পরের মাসগুলোতে বিভিন্ন ফরজ-ওয়াজিব ও গুরুত্বপূর্ণ নফল আমল রয়েছে, জিলকদ মাসে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ আমলের কথা কোরআন-হাদিসে আসেনি। ফলে বান্দা এ মাসে কিছুটা বিশ্রামের অবকাশ পেয়ে থাকে পরবর্তী মাসগুলোর গুরুত্বপূর্ণ আমলের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের। তাই এ মাসকে জিলকদ বা বিশ্রামের মাস বলা হয়।

এ মাসের নফল ইবাদত

তবে জিলকদ মাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশেষ কোনো আমল না থাকলেও অন্যান্য আমল রয়েছে এবং এ আমল বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই করা মুমিনের কর্তব্য। অন্যান্য চন্দ্রমাসের মতো এ মাসেরও ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখের রোজা (আইয়ামে বিজ) রাখা যায় এবং তা অত্যন্ত ফজিলতের। এ ছাড়া সাপ্তাহিক সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা রাখা সুন্নত।

পাশাপাশি অন্যান্য মাসের সাধারণ নফল নামাজগুলো, তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, তসবিহ-তাহলিল ইত্যাদি পাঠ করা যায়। বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা এবং বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। দানখয়রাত বেশি বেশি করা।

জিলকদ মাসে কোরবানির প্রস্তুতি

জিলহজ মাসে কোরবানির প্রস্তুতি উপলক্ষে জিলকদ মাসের শেষে চুল-গোঁফ ও হাত পায়ের নখ কেটে নেয়া যেতে পারে। কারণ কোরবানির আগ পর্যন্ত ১০ দিন  চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত বিরত থাকা প্রিয় নবীর সুন্নত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা কোরবানি দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, তারা যেন জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজ নিজ চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।' (মুসলিম, মিশকাত)

ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি ও আমল

রজব-শাবান মাসে নফল রোজা, রমজানজুড়ে ফরজ রোজা, সন্ধ্যা ও ভোর রাতে তারাবিহ-তাহাজ্জুদ ও সাহরি গ্রহণ এবং শাওয়ালে ৬ রোজা রাখার পর জিলহজ মাসে বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী মাসের রোজা ও হজ-কোরবানির প্রস্তুতি গ্রহণের মাস এটি।

জিলকদ মাসের আমল
এ মাসজুড়ে বিশ্রামের পাশাপাশি এ মাসেও অন্যান্য আরবি মাসের মতো নিয়মিত আমলগুলো করা যেতে পারে। তা হলো:

১. এ মাসের ১, ১০, ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখ রোজা পালন করা।

২. জিলকদ মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (২৫-২৭ জুন) আইয়ামের বিজের রোজা পালন করা।

৩. সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা পালন করা। (তা হলো: ১৭, ২১,২৪ ও ২৮ জুন এবং ০১, ০৫, ০৮, ১২, ১৫ ও ১৯ জুলাই)।

৪. কোরআন তেলাওয়াত করা ও সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায় করা।

৫. সম্ভব হলে ওমরাহ পালন করা।

৬. হজের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

৭. কোরবানির প্রস্তুতি গ্রহণ করা।