• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সূচি তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ডিভাইস আমরা রপ্তানি করব : প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে দেশে ফিরেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী ইনকিউবেটরের হাত ধরে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবেন না: প্রধানমন্ত্রী অনেক দেশেই এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার: প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৭, খাসি ‌১৮ টাকা নির্ধারণ কাউকে যেন কষ্ট না পেতে হয়: প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পিজিআরকে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, মোনাজাত পদ্মা সেতুতে সন্তানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি ‘পদ্মা সেতু ও রপ্তানি আয় জাতির সক্ষমতা প্রমাণ করছে’ টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী, গাড়ি থামিয়ে উপভোগ করলেন সৌন্দর্য পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব জনগণের: প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় দেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছি পারিবারিক আদালত আইনের খসড়া অনুমোদন ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলছে না

ধ্বংসস্তূপে প্রাণ খুঁজছে আফগানিস্তান

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের একটি এলাকা। ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি। এতে এরই মধ্যে হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন আরও দেড় হাজারের বেশি মানুষ। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ। ধ্বংসস্তুপের নিচে প্রাণ খুঁজে পেতে চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকারীরা।

মাটির ইটে মাটি দিয়ে গাঁথা সব বাড়ি। সেগুলো উইয়ের ঢিপির মতো ভেঙে ধুলো হয়ে গিয়েছে। ছাদ এসে মাটিতে মিশেছে। এক একটি গ্রামে সেই ধ্বংসস্তূপের পাশে হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে জীবিত বাসিন্দাদের। বাকিরা অনেকেই ওই মাটিতে মেশা ছাদের নিচে।

সীমান্ত লাগোয়া পাকতিকার ছোট্ট জেলা গায়ান। জঙ্গলে ঘেরা জেলাটিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। ছোট ছোট গ্রামে অল্প কয়েকটি করে বসতি। মঙ্গলবার গভীর রাতে যখন ভূমিকম্প হয়, তখন গোটা গায়ানই ঘুমিয়ে ছিল। একই অবস্থা গায়ানের পাশের জেলা বরমালেরও।

আয়তনে গায়ানের দ্বিগুণ বারমাল। কয়েকটি শহর, শহরতলিও রয়েছে। সেখানে রয়েছে প্রশাসনিক দফতর। তবে গোটা জেলায় কোনো স্কুল ও হাসপাতাল নেই। আহতদের চিকিৎসার জন্য বারমাল থেকে হেলিকপ্টারে করে আহতদের উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্য প্রদেশে। কোথাও ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই চলছে প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের খোস্ত শহর থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার (২৭ মাইল) দূরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং এটার উৎপত্তি ছিল মাটির ৫১ কিলোমিটার (৩১ মাইল) গভীরে।

আল জাজিরার আলি লাতিফি বলেন, তালেবান কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য হেলিকপ্টার এনেছে এবং সাহায্য সংস্থাগুলোকে এখানে আসার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এটা একটি প্রত্যন্ত এলাকা এবং এখানে পৌঁছানো কঠিন।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক লেখক হেদায়েতুল্লাহ পাকতিন বলেন, এ অঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ি নির্মাণে ঐতিহ্যগতভাবে মাটি, পাথর ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এখানে কংক্রিটের ঘর বিরল। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। দুর্ভাগ্যবশত ভূমিকম্প এমন সময়ে আঘাত হেনেছে যখন আফগানিস্তান একটি বড় অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে। এখানে মৌলিক চাহিদা এবং স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় সংকট আছে।

আফগানিস্তানে গত দুই দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। পাকতিকা প্রদেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিন হাজিফি বলেছেন, এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দেড় হাজার জন। উদ্ধারকারী দল এখনও মাটির নিচে চাপা পড়া অন্যদের সন্ধান করছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে এমন ভূমিকম্পে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায়। হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে অনেকগুলি ফল্ট লাইন রয়েছে। কিন্তু ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় ভূমিকম্প ঠেকানোর উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ৭০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভূমিকম্পে। গড়ে প্রতি বছর ৫৬০ জনের ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় আফগানিস্তানে। ২০২২ সালের মতো তীব্র ভূমিকম্প হয়েছিল ২০০২ সালেও। সেবারও হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছিল আফগানিস্তানে। ১৯৯৮ সালে একই ধরনের তীব্রতার ভূমিকম্পে সাড়ে চার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন দেশটিতে। তার পরও সতর্ক হয়নি আফগান প্রশাসন।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ ন্যূনতম খাবারটুকুও পান না। এই পরিস্থিতিতে এত বড় বিপর্যয় কি সামলাতে পারবে আফগানিস্তান?

দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ হাসান আখুন্দ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাঠানো হচ্ছে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে। তবে পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।