• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সূচি তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ডিভাইস আমরা রপ্তানি করব : প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে দেশে ফিরেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী ইনকিউবেটরের হাত ধরে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবেন না: প্রধানমন্ত্রী অনেক দেশেই এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার: প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৭, খাসি ‌১৮ টাকা নির্ধারণ কাউকে যেন কষ্ট না পেতে হয়: প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পিজিআরকে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, মোনাজাত পদ্মা সেতুতে সন্তানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি ‘পদ্মা সেতু ও রপ্তানি আয় জাতির সক্ষমতা প্রমাণ করছে’ টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী, গাড়ি থামিয়ে উপভোগ করলেন সৌন্দর্য পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব জনগণের: প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় দেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছি পারিবারিক আদালত আইনের খসড়া অনুমোদন ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলছে না

চার দশকেরও বেশি সময় শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে আ.লীগ

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২২  

বিদেশে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  মঙ্গলবার (১৭ মে) আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের এই দিনে স্বদেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।

দেশে ফেরার পর থেকে শেখ হাসিনা টানা ৪১ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী, প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। সেসঙ্গে তার যোগ্য নেতৃত্বে চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে দলটি। এর মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বর্তমানে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকার ইতিহাস গড়েছে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনাকে এই দীর্ঘ সময় দলের প্রধানের দায়িত্বে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কারাবরণ, জীবনের ঝুঁকিসহ অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন। শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের এই সময়ের শাসন আমলেই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন মাত্র সূচিত হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার হাত দিয়েই বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এখন বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশে পরিণত হয়েছে এবং উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। তখন তারা বেলজিয়ামে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে জার্মানি হয়ে তারা ভারতে আশ্রয় পান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে তখন দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারত থেকে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।

এদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তার দল আওয়ামী লীগ। জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, নিপীড়নের শিকার হন দলের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও প্রকট আকার ধারণ করে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাসিত জীবনে ভারতে অবস্থানকালে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনা আওয়ামী
লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। ওই বছর ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সর্বসন্মতিক্রমে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ওই বছর ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। শুরু হয় শেখ হাসিনার আরেক সংগ্রামী জীবন।

১৯৮১ সালে দেশের মাটিতে ফিরে এলে ঢাকায় লাখ লাখ জনতা তাকে স্বাগত জানায়। এ সময় শেরে বাংলা নগরে আয়োজিত সমাবেশে লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘ পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মধ্যেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। ’

এরপর থেকেই শুরু হয় শেখ হাসিনার নতুন করে আরেক সংগ্রামের পথচলা। তার নেতৃত্বে দ্বিধা বিভক্ত আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। চারবার প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি তিনবার বিরোধীদলের নেতাও ছিলেন।

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে অনেক বার তার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের ২৩ জন নেতাকর্মী শহীদ হন।

এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দল ও সরকারের নেতৃত্বে থেকে বাংলাদেশের জন্য বড় বড় অর্জনও বয়ে এনেছেন শেখ হাসিনা। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ তার নেতৃত্বেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা তিনিই দিয়েছেন। মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচি জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশই নয় বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে কথা বলা এবং মতামত দেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও শেখ হাসিনার পরিচিতি বাড়ছে।

শেখ হাসিনা নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন।

‘রূপকল্প ২০৪১ সালের’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটের এই ক্রান্তিলগ্নেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিঃস্বার্থভাবে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। করোনা প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট সংকটের শুরু থেকেই তিনি করোনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেন। জনগণের জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন অনুদানের প্যাকেজ দিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের টিকা সংগ্রহ ও টিকাদান এবং করোনা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে শেখ হাসিনার পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে।