• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
কাউকে সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কাস্টমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে একাত্তরে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমার ব্যর্থতা থাকলে খুঁজে বের করে দিন: প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন স্কাউট প্রশিক্ষণ পায়: প্রধানমন্ত্রী সংঘাত, সন্ত্রাস ও ক্ষমতা দখলকে পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র ২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ডলার: প্রধানমন্ত্রী টেক্কা দিয়ে বাংলাদেশের এগোনো অনেকের পছন্দ না: প্রধানমন্ত্রী জনগণের পয়সায় সুযোগ-সুবিধা, তাদের সেবা করুন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ২৫ নির্দেশনা জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: ডিসিদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর শাসনামল নিয়ে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে শহীদের রক্ত বৃথা যায়নি: রাষ্ট্রপতি অপশাসনের বিরুদ্ধে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান অনুপ্রেরণার: প্রধানমন্ত্রী বৃহত্তর বৈশ্বিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ: প্রধানমন্ত্রী

দুয়ার খুলছে বঙ্গভবনের

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩  

শতাব্দীকালের বর্ণাঢ্য ইতিহাস রয়েছে ভবনটির। একসময় নাম ছিল মানুক হাউজ, তারপর গভর্নর হাউজ। ভিক্টোরীয় স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে ইসলামি ও বাঙালি স্থাপত্যের সমন্বয়ে অনন্য এক নিদর্শন হয়ে ওঠা ভবনটি এখন বঙ্গভবন। ইতিহাস ও ঐতিহ্য, গৌরব ও সম্মানের এই স্মারক এবার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এই প্রথম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভবনও খুলে দেওয়া হচ্ছে।

দেশের সর্বোচ্চ সুরক্ষিত প্রাসাদ বঙ্গভবন সম্পর্কে কৌতূহল মেটাতে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা অনলাইনে পাস সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রবেশ করতে পারবেন। দেখতে পারবেন সেখানে থাকা তোষাখানা জাদুঘর, এয়ার রেইড শেল্টার, দুম্বা শেড, হরিণ পার্ক, দৃষ্টিনন্দন চারটি পুকুর ও একটি সুইমিং পুল, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে পাওয়া নানা দুর্লভ উপহারসামগ্রী।

আধুনিক ল্যান্ডস্ক্যাপে সাজানো ২০৪ বিঘা জমির মধ্যে পাখপাখালির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে দর্শনার্থীরা ৪০০ বছরের পুরনো তিন বিখ্যাত মনীষীর মাজারের দেখা পাবেন। তিন মাজারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসও পড়তে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।

ইতিমধ্যেই স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকে নকশা করে কাজে হাত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এ কাজ মনিটরিং করছেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও সহকারী সামরিক সচিব। এ কাজে কমবেশি ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করে উন্মুক্ত করা হবে এ প্রাসাদটি। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনেও বঙ্গভবনের এসব দর্শনীয় স্থান দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বিদায়বেলায় ইতিহাসের পাতায় এমন এক নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী বঙ্গভবনের দর্শনার্থী প্রবেশের মতো একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বঙ্গভবন এলাকায় বেশ কিছু কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আশা করছি সাধারণ মানুষের জন্য একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি উন্মুক্ত করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হবে।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার বলেন, ‘আমরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন ধাপে কাজ শুরু করেছি। এর মধ্যে বড় আকারের তিনটি কাজ রয়েছে। পুরনো জরাজীর্ণ স্থাপনাগুলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রেট্রোফিটিং করা হচ্ছে। আশা করছি, এ মাসের শেষদিকে রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করতে পারবেন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ইচ্ছা অনুযায়ী বঙ্গভবন দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত অক্টোবর মাসে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘বঙ্গভবনকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্তকরণের লক্ষ্যে আধুনিকায়ন’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। কাজটি করছে ‘প্যারাডাইম আর্কিটেকস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আধুনিকায়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বঙ্গভবনের জরাজীর্ণ তোষাখানাকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা ও সংরক্ষণ করা, একটি আধুনিক গাড়ি প্রদর্শনী শেড নির্মাণ, বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে হরিণ পুকুরসংলগ্ন স্থানে হাঁটার রাস্তা (ওয়াকওয়ে), বসার বেঞ্চসহ একটি দৃষ্টিনন্দন সবুজ উদ্যান নির্মাণ, এয়ার রেইড শেল্টার হাউজকে দর্শনার্থীদের ঘুরে দেখার জন্য উপযুক্ত করে সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন, রাস্তাগুলো কার্পেটিং করাসহ আনুষঙ্গিক কাজ রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশে বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা বিরল পোস্টার দিয়ে আরেকটি প্রদর্শনীকেন্দ্র তৈরি করা হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা একটি সভা করেছি। সিদ্ধান্ত হয়েছে বিশে^র যেকোনো স্থান থেকে যেন একজন ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে থাকা দর্শনীয় কিছু স্থান দেখতে পান। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইসিটি অধিদপ্তর থেকে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রপতির দপ্তর ও বাসভবন, যা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপনা। বঙ্গভবনের ভেতরে অতি পুরনো একটি তোষাখানা ও ষাটের দশকে নির্মিত একটি শেল্টার হাউজ আছে, যা অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জীর্ণ এ তোষাখানাকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রদূতসহ অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এটি পরিদর্শন করতে পারেন। এ ছাড়া বঙ্গভবন ও রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে জানতে পারেন। এ ছাড়া জীর্ণ শেল্টার হাউজকেও পুরনো আদলে আধুনিকায়ন করে সেটিও পরিদর্শন উপযোগী করা প্রয়োজন। তাই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাপিডিয়াসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর দিলকুশায় ঐতিহাসিক ও নান্দনিক এ স্থাপনাটি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সুলতানি আমলে বঙ্গভবন যে স্থানে তা ছিল হযরত শাহজালাল দখিনি নামের ঢাকার এক সুফিসাধকের। সুলতানের চরেরা সুফিসাধক এবং তার অনুসারীদের হত্যা করার পর তাদের এখানে কবর দেওয়া হয়। স্থানটি দ্রুত সাধকের ভক্তদের মাঝে মাজার হিসেবে পরিচিত লাভ করতে থাকে। ১৯০৪ সালে আর্মেনীয় জমিদারের বাসস্থান ছিল ভবনটি। তখন এর নাম ছিল মানুক হাউজ। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে পূর্ববঙ্গ এবং আসামের সরকার জায়গাটি কিনে নেয় এবং একটি প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করে, যা ১৯১১ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেলের অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯১১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রাসাদটিকে গভর্নর হাউজ নামে ডাকা হতো এবং বাংলার গভর্নরের অস্থায়ী বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভারত ভাগের পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্ম হয় এবং প্রাসাদটি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বাসভবনে পরিণত হয়। ভবনটি ১৯৬১ সালে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৬৪ সালে পুনর্নির্মাণ শেষ হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারির ১২ তারিখে গভর্নর হাউজের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গভবন করা হয়। ওই দিনই আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি হন। তখন ভবনটিকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ব্রিটিশ আমলে ঢাকায় স্থাপিত অন্যান্য স্থাপত্যের মতো বঙ্গভবনও অনেকটা ভিক্টোরিয়া স্থাপত্যে নির্মিত। ১৯৬১ ও ’৬৪ সালে সংস্কারের পর এখানে ইসলামি স্থাপত্য ও বাঙালি স্থাপত্যের সমন্বয় ঘটানো হয়। চারদিকে লম্বা প্রাচীরঘেরা মূল ভবন ত্রিতল। প্রাসাদোপম চত্বরের চারপাশে সবুজ ও বৃক্ষরাজিতে আবৃত।

বঙ্গভবনের আধুনিকায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গভবন বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। বঙ্গভবন যেহেতু রাষ্ট্রপতির বাসভবন, সেহেতু এটি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের সমমর্যাদা বহন করে। বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের এ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির আলাদা পরিচর্যা করা হয়।