• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২০ ১৪২৯

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজকের পটুয়াখালী
ব্রেকিং:
দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য: রাষ্ট্রপতি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পথে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা বিরতি কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্যের সূচনা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব: রাষ্ট্রপতি সোনার বাংলা গড়তে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ‘শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই’ ‘মুজিববর্ষে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১২৯টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে’ শিশুদের বুকে বড় হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী আগামী প্রজন্মের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ণের বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি ‘সেনাবাহিনীর হাজার হাজার অফিসার ও সৈনিক হত্যা করে জিয়া’ যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী জিনপিংকে শুভেচ্ছা জানিয়ে হামিদ-হাসিনার চিঠি দেশে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে একযোগে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে দুর্গাপূজা এখন সার্বজনীন উৎসব: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র কী করে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে আশ্রয় দিয়েছে বিভিন্ন আয়োজনে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপিত

বিদ্যুৎ পাল্টে দিয়েছে বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালীর অর্থনীতি

আজকের পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২২  

একসময় অন্ধকারে থাকতো পটুয়াখালী সদর উপজেলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ভোলা থেকে নদীর তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এই দুর্গম উপজেলায়। তারপর মাত্র কয়েকমাসে চেহারা পাল্টে গেছে এই উপজেলার। কলকারখানা থেকে শুরু করে নতুন নতুন ব্যবসার দ্বার খুলে গেছে এই দুর্গম উপজেলার। এসব এলাকার মানুষের কাছে বিদ্যুৎ ছিল এক স্বপ্নের নাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিতে এখন তা বাস্তব। তিনি বলেছিলেন, কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই আলো জ্বলবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষ সূর্য ডোবার পর ঘর থেকে খুব কম বের হতেন। নিম্ন আয়ের মানুষ কুপি জ্বালিয়ে এবং মধ্যম আয়ের মানুষ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে কোনোরকম একটি বাতি জ্বালাতেন। গরমে ফ্যান পর্যন্ত চালানোর উপায় ছিল না। অন্ধকারে থাকা এই উপজেলার মানুষ তাই আলোর খোঁজে পাড়ি জমাতেন শহরের দিকে। দুর্গম এই এলাকার মানুষ বিদ্যুৎকে মনে করে স্বপ্নে দেখা এক আকাঙ্ক্ষা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল, চরবিশ্বাস ইউনিয়নে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন চালু করার কাজ হাতে নেওয়া হয়। ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতে সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে এ বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশে সবচেয়ে দীর্ঘতম সাবমেরিন ক্যাবল লাইন। প্রতিটি গ্রাহকের বাড়িতে মিটারের লাইনের তার টানা হয়েছে। এই উপজেলার বিদ্যুতের সুবিধাভোগী প্রায় ২৪ হাজার মানুষ।

পটুয়াখালীর ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষকে এক সময় নির্ভর করতে হতো জ্বালানির ওপর। সেচ কাজ কিংবা বাজারে দোকান পরিচালনা করতেও বিদ্যুতের জন্য ডিজেল, জেনারেটরের প্রয়োজন হতো; আর তাতে খরচ হতো অনেক। বিদ্যুৎ আসায় সেই খরচ কম হয়েছে।

এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার এক লাখ মানুষের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষ মৎস্যজীবী। মাছ ধরে তাদের সংসার চলে। তবে এই মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফের প্রয়োজনে অন্তত ১৫ কি মি পথ পাড়ি দিয়ে আনতে হতো। বিদ্যুৎ আসার ফলে এই এলাকার অন্তত ছয়টি বরফ কল চালু হয়েছে। একইসঙ্গে চালু হয়েছে রাইস মিল। বিদ্যুৎ আসার কারণে বাজারে এখন ইলেকট্রনিক্সের দোকান হয়েছে বেশ কয়েকটি। চায়ের দোকানে বসেছে টিভি আর ফ্রিজ। গরমে তৃষ্ণা মেটাতে এখন ঠাণ্ডা পানীয় খেতে পারে এই এলাকার মানুষ।

রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্যজীবী ফারুক জানান, বরফের অভাবে মাছ সেভাবে সংরক্ষণ করা যেত না। এ কারণে অনেক মাছ পঁচে যেত। দূর থেকে বরফ আনতেও খরচ অনেক বেশি ছিল। এখন বরফ কল হওয়ায় মাছের ব্যবসায় আলোর মুখ দেখছেন তিনি। তার মতো অনেক মৎস্যজীবী হয়ে পড়েছেন মাছ ব্যবসায়ী।

এখানকার আরেকটি অর্থকরী ফসল হচ্ছে তরমুজ। তরমুজসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ভুগর্ভস্থ পানির জন্য নির্ভর হতে হতো লবণাক্ততার কারণে। বিদ্যুৎ দিয়ে এখন সেচের ব্যবস্থা হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে তরমুজ চাষে। গেল বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে এই উপজেলা থেকে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রধান বাজার বায়ারচরের ব্যবসায়ী অমিত জানান, আমরা কোনোদিন বিশ্বাস করতে পারিনি বিদ্যুৎ আসবে। বিদ্যুৎ আসার পর এখানে ইলেকট্রনিক্সের শো রুম চালু হয়েছে বেশ কয়েকটি। মানুষের জীবনযাত্রা অনেকখানি পাল্টে গেছে। আমাদের এখানে অল্প সংখ্যক ঘরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হতো। বেশিরভাগ ঘরে জলতো কুপি। বিদ্যুৎ আসার পর এখন সবাই কম খরচেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে এবং একইসঙ্গে কর্মসংস্থান হচ্ছে।

এই বাজারের কমিটির সভাপতি আব্বাস উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার ৫টা ডিজেল জেনারেটর চলতো। তাতে মাসে খরচ হতো প্রায় ৫০ হাজার। সেখান থেকে খরচ কমে এসেছে।’

উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের সামনে চা বিক্রি করেন খোকন। তিনি আগে তার দোকানে একটি সোলার প্যানেলের সাহায্যে একটি বাতি জ্বালিয়ে কোনোরকম দোকান চালাতেন। বিদ্যুৎ আসায় দোকানে বসিয়েছেন টিভি ও ফ্রিজ। তাতে তার আয় বেড়েছে বলে জানান তিনি।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিদ্যুৎ ছিল স্বপ্ন দেখার মতো। রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ আসার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রিক কয়েক ধরনের ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। এখানে বিগত কয়েকমাসে কয়েকটি ইলেকট্রনিক্সের দোকান হয়েছে। এখানে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, বিনিয়োগ হচ্ছে।’